দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ সম্প্রতি ‘এইচএসবিসি ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬: দ্য বাংলাদেশ পার্সপেকটিভ’ শীর্ষক একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এতে ‘আস্ক দ্য মিনিস্টার’ শীর্ষক একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ফায়ারসাইড আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। এইচএসবিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এইচএসবিসির এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট রিসার্চের কো-হেড ফ্রেডেরিক নিউম্যান। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি তার স্থিতিশীলতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। জ্বালানি তেলের দাম কমে আসা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা হ্রাস এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকায় বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তৈরি পোশাক রফতানি ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে চলমান অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিবাচক প্রভাব দেশীয় বিনিয়োগ ও ভোগব্যয়কে আরো উৎসাহিত করবে।’ এর ফলে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন এ অর্থনীতিবিদ।
এরপর এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমানের সঞ্চালনায় ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় রফতানি বহুমুখীকরণে কী ধরনের নীতিমালা সহায়ক হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন সুযোগ তৈরি করাই রফতানি বহুমুখীকরণের মূল চাবিকাঠি। এজন্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং নতুন বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ছিলেন এইচএসবিসির এশিয়া অঞ্চলের ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটসের হেড অব ব্যাংকিং ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রিয়া কিনি। তিনি বলেন, ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাজারের গতিবিধি সম্পর্কে এগিয়ে থাকা আমাদের গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পরবর্তী অধ্যায় নির্ধারিত হবে প্রবৃদ্ধির গুণগত মান ও টেকসই ভিত্তির ওপর। বৈশ্বিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং তারল্য সংকোচনের এ প্রেক্ষাপটে আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে আরো উচ্চ অবস্থানে পৌঁছার সক্ষমতার ওপর।’